ঢাকা , রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, হুইপদের জেলাভিত্তিক দায়িত্বের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে রিট নতুন কমিটি নিয়ে নোয়াখালীতে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৫ ভয়াবহ বন্যার স্রোত ধেয়ে আসতেই ঘণ্টা বাজালেন প্রধান শিক্ষক, বাঁচল ১৬৪৩ প্রাণ লন্ডনে মদের বার কিনে মসজিদে রূপান্তর করলেন বাংলাদেশি রাসেল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, দাফন দিল্লিতে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হানাদার বাহিনীর মতই আচরণ করেছে শেখ হাসিনা সরকার: ইশরাক মানবাধিকার কমিশন বিল পাসের কোনও প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত থাকবে না বিরোধী দল আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না: রাষ্ট্রপতি ‘দাদাগিরি’ ছেড়ে আজ থেকে ‘বিগ বস বাংলা’য় সৌরভ গাঙ্গুলী নৌকা খুঁজতে গেলে রুমিনের ‘হাঁস’ খেয়ে ফেলার হুঁশিয়ারি সারোয়ার তুষারের

‘যুদ্ধক্ষেত্রেই দেখা যাবে চমক’, নতুন অস্ত্র প্রস্তুতের দাবি ইরানের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:২৫:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

ভবিষ্যতে যেকোনো সম্ভাব্য যুদ্ধ মোকাবিলায় নতুন অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম এবং উন্নত প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সক্ষমতা প্রস্তুত করেছে ইরান। এমন দাবি করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়ি-নিক।

স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ সংঘাতে ইরানের প্রস্তুত করা নতুন কিছু ‘চমক’ সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রেই দেখা যাবে। তবে এসব সক্ষমতার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি।

রেজা তালায়ি-নিকের দাবি, গত দুই বছরে ইরান দুটি যুদ্ধ, বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকি এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। ব্যাপক হামলা ও প্রতিপক্ষের ভারী অগ্নিশক্তির মধ্যেও দেশটির সেনাবাহিনী, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী—আইআরজিসি এবং খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের প্রয়োজনীয় সামরিক চাহিদা পূরণ করা হয়েছে।

তার মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো ইরানের জন্য ক্ষয়ক্ষতি বয়ে আনলেও একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান, শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে নতুন অগ্রগতির সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের কৌশলগত মজুত গড়ে তুলেছিল। যুদ্ধ চলাকালেও প্রায় ৯ হাজার ৩০০টি জ্ঞানভিত্তিক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় অস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত ছিল।

ইরানি এই কর্মকর্তার দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে। যুদ্ধের পর ইরানের অস্ত্র উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে উৎপাদন আরও কয়েকগুণ বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রযুক্তিতে নিজেদের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।

রেজা তালায়ি-নিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইরান এক হাজারের বেশি ধরনের অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ উৎপাদন করছে। প্রতিরক্ষা খাতে দেশটির স্বনির্ভরতার হার ৯০ শতাংশের বেশি বলেও দাবি করেন তিনি।

তার দাবি, ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন শুধু রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং নিজস্ব প্রযুক্তি ও নকশা উদ্ভাবনের সক্ষমতাও অর্জন করেছে।

সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই কর্মকর্তা বলেন, ওই যুদ্ধে ইরানের সবচেয়ে বড় ‘চমক’ ছিল দেশটির স্থিতিস্থাপকতা। প্রতিপক্ষ ধারণা করেছিল, যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের সামরিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সক্ষমতা ভেঙে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।

তিনি আরও জানান, ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল এখনো সমন্বিত ও অসমমিত পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। একই সঙ্গে প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামোর মধ্যেই আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ড্রোন প্রতিরোধব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা হয়েছে বলে দাবি করেন রেজা তালায়ি-নিক। তার ভাষ্য, এর ফলে পরবর্তী সংঘাতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

সবশেষে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সক্ষমতার ক্ষেত্রে আরও বেশ কিছু ‘চমক’ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সময় এলে সেসব সক্ষমতা যুদ্ধক্ষেত্রেই প্রকাশ পাবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, হুইপদের জেলাভিত্তিক দায়িত্বের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে রিট

‘যুদ্ধক্ষেত্রেই দেখা যাবে চমক’, নতুন অস্ত্র প্রস্তুতের দাবি ইরানের

আপডেট সময় ০১:২৫:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

ভবিষ্যতে যেকোনো সম্ভাব্য যুদ্ধ মোকাবিলায় নতুন অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম এবং উন্নত প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সক্ষমতা প্রস্তুত করেছে ইরান। এমন দাবি করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়ি-নিক।

স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ সংঘাতে ইরানের প্রস্তুত করা নতুন কিছু ‘চমক’ সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রেই দেখা যাবে। তবে এসব সক্ষমতার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি।

রেজা তালায়ি-নিকের দাবি, গত দুই বছরে ইরান দুটি যুদ্ধ, বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকি এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। ব্যাপক হামলা ও প্রতিপক্ষের ভারী অগ্নিশক্তির মধ্যেও দেশটির সেনাবাহিনী, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী—আইআরজিসি এবং খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের প্রয়োজনীয় সামরিক চাহিদা পূরণ করা হয়েছে।

তার মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো ইরানের জন্য ক্ষয়ক্ষতি বয়ে আনলেও একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান, শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে নতুন অগ্রগতির সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের কৌশলগত মজুত গড়ে তুলেছিল। যুদ্ধ চলাকালেও প্রায় ৯ হাজার ৩০০টি জ্ঞানভিত্তিক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় অস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত ছিল।

ইরানি এই কর্মকর্তার দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে। যুদ্ধের পর ইরানের অস্ত্র উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে উৎপাদন আরও কয়েকগুণ বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রযুক্তিতে নিজেদের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।

রেজা তালায়ি-নিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইরান এক হাজারের বেশি ধরনের অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ উৎপাদন করছে। প্রতিরক্ষা খাতে দেশটির স্বনির্ভরতার হার ৯০ শতাংশের বেশি বলেও দাবি করেন তিনি।

তার দাবি, ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন শুধু রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং নিজস্ব প্রযুক্তি ও নকশা উদ্ভাবনের সক্ষমতাও অর্জন করেছে।

সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই কর্মকর্তা বলেন, ওই যুদ্ধে ইরানের সবচেয়ে বড় ‘চমক’ ছিল দেশটির স্থিতিস্থাপকতা। প্রতিপক্ষ ধারণা করেছিল, যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের সামরিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সক্ষমতা ভেঙে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।

তিনি আরও জানান, ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল এখনো সমন্বিত ও অসমমিত পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। একই সঙ্গে প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামোর মধ্যেই আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ড্রোন প্রতিরোধব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা হয়েছে বলে দাবি করেন রেজা তালায়ি-নিক। তার ভাষ্য, এর ফলে পরবর্তী সংঘাতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

সবশেষে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সক্ষমতার ক্ষেত্রে আরও বেশ কিছু ‘চমক’ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সময় এলে সেসব সক্ষমতা যুদ্ধক্ষেত্রেই প্রকাশ পাবে।