ঢাকা , সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আড়াইশ কোটি টাকার শেয়ার কেলেঙ্কারি, সাকিবসহ ১৫ জনের নথি জব্দ  স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত না ঘটাতে সব দলকে বসার আহ্বান সিইসির ‘এমপি হয়েও ৭ দিন ধরে ডিআইজিকে পাচ্ছি না, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী’ মুসলিমপ্রধান দেশে ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটি, তথ্য আড়াল রাখতে দুজনকে হত্যা দক্ষিণ কোরিয়ায় আসিফ মাহমুদকে নাগরিক সংবর্ধনা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মোছার নির্দেশ সিটি করপোরেশন দেয়নি: চসিক মেয়র ভারতে জনসংখ্যা বাড়াতে নগদ টাকা ও ছুটির ঘোষণা রাজ্য সরকারের এবার ভারতকে পরমাণু হামলার পাল্টা হুঁশিয়ারি দিলো পাকিস্তান লন্ডন থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি চট্টগ্রামে জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে বিএনপি-এনসিপির মুখোমুখি অবস্থান

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ইসির কাছে ১৮ দফা সুপারিশ জমা দিলো জামায়াত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:১৯:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৬৭ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ১৮ দফা সুপারিশ পেশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতের ১৮ দফা সুপারিশ হচ্ছে-

১. জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদানের লক্ষ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারীর পরেই আগামী নভেম্বরে গণভোটের আয়োজন করতে হবে।

২. উপদেষ্টা পরিষদে গৃহীত সর্বশেষ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ২০ নম্বর অনুচ্ছেদের সংশোধিত বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক রাজনৈতিক দল তাদের নিজস্ব দলীয় প্রতীক ব্যবহার করবে; অন্য কোনো দলের প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। এই বিধান বহাল রাখতে হবে।

৩. নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রত্যেক স্তরে কর্মকর্তা- কর্মচারীদের শতভাগ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত প্রিজাইডিং, পোলিং, আনসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়োগে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।

৫. সকল ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত পরিমাণ সামরিক বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করতে হবে।

৬. সকল ভোটকেন্দ্রের নির্বাচনী বুথে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।

৭. বিগত বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগামী নির্বাচনে নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া যাবে না; মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের (ডিসি, এসপি, ইউএনও ও ওসি) নিয়োগ শতভাগ লটারির ভিত্তিতে দিতে হবে।

৮. রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগে প্রশাসনের অফিসারগণের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।

৯. সব ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনের কমপক্ষে এক সপ্তাহ পূর্বে সামরিক, বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

১০. নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে নির্বাচনী মাঠ সমতল করা হবে।

১১. সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে; অতীত কালে দলীয় প্রয়োজনে দেওয়া অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করে তা সরকারের নিকট জমা করতে হবে।

১২. নির্বাচনী এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে সন্ত্রাস ও আতঙ্ক সৃষ্টি করার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

১৩. ভোটারদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যাতায়াত নিশ্চিত করতে নির্বাচনী এলাকার ভেতর ও বহির্ভূত স্থানে সন্ত্রাসী তৎপরতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে দমন করতে হবে।

১৪. ভোটার তালিকায় ভোটারদের ছবি স্পষ্ট না হলে তা সংশোধন করে চিত্রসহ তালিকা পোলিং এজেন্টদের যথাসময়ে সরবরাহ করতে হবে।

১৫. নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত পোলিং, প্রিজাইডিং অফিসার, আনসার ও আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদানের সুযোগ দিতে হবে।

১৬. প্রবাসী ভোটারদের ভোট প্রদানের পদ্ধতি সহজ করতে ভোটার আইডি কার্ড বা পাসপোর্ট যেকোনো একটির মাধ্যমে ভোট প্রদানের সুযোগ দেওয়া হোক; রেজিস্টার্ড প্রবাসী ভোটারদের তালিকা রাজনৈতিক দলগুলোকে যৌক্তিক সময়ে সরবরাহ করতে হবে।

১৭. নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও নিরপেক্ষতা যাচাই করতে হবে।

১৮. অতীতকালে ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করা হয়ে থাকলে অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে সেগুলো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করতে হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আড়াইশ কোটি টাকার শেয়ার কেলেঙ্কারি, সাকিবসহ ১৫ জনের নথি জব্দ 

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ইসির কাছে ১৮ দফা সুপারিশ জমা দিলো জামায়াত

আপডেট সময় ০৩:১৯:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ১৮ দফা সুপারিশ পেশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতের ১৮ দফা সুপারিশ হচ্ছে-

১. জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদানের লক্ষ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারীর পরেই আগামী নভেম্বরে গণভোটের আয়োজন করতে হবে।

২. উপদেষ্টা পরিষদে গৃহীত সর্বশেষ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ২০ নম্বর অনুচ্ছেদের সংশোধিত বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক রাজনৈতিক দল তাদের নিজস্ব দলীয় প্রতীক ব্যবহার করবে; অন্য কোনো দলের প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। এই বিধান বহাল রাখতে হবে।

৩. নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রত্যেক স্তরে কর্মকর্তা- কর্মচারীদের শতভাগ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত প্রিজাইডিং, পোলিং, আনসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়োগে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।

৫. সকল ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত পরিমাণ সামরিক বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করতে হবে।

৬. সকল ভোটকেন্দ্রের নির্বাচনী বুথে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।

৭. বিগত বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগামী নির্বাচনে নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া যাবে না; মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের (ডিসি, এসপি, ইউএনও ও ওসি) নিয়োগ শতভাগ লটারির ভিত্তিতে দিতে হবে।

৮. রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগে প্রশাসনের অফিসারগণের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।

৯. সব ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনের কমপক্ষে এক সপ্তাহ পূর্বে সামরিক, বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

১০. নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে নির্বাচনী মাঠ সমতল করা হবে।

১১. সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে; অতীত কালে দলীয় প্রয়োজনে দেওয়া অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করে তা সরকারের নিকট জমা করতে হবে।

১২. নির্বাচনী এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে সন্ত্রাস ও আতঙ্ক সৃষ্টি করার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

১৩. ভোটারদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যাতায়াত নিশ্চিত করতে নির্বাচনী এলাকার ভেতর ও বহির্ভূত স্থানে সন্ত্রাসী তৎপরতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে দমন করতে হবে।

১৪. ভোটার তালিকায় ভোটারদের ছবি স্পষ্ট না হলে তা সংশোধন করে চিত্রসহ তালিকা পোলিং এজেন্টদের যথাসময়ে সরবরাহ করতে হবে।

১৫. নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত পোলিং, প্রিজাইডিং অফিসার, আনসার ও আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদানের সুযোগ দিতে হবে।

১৬. প্রবাসী ভোটারদের ভোট প্রদানের পদ্ধতি সহজ করতে ভোটার আইডি কার্ড বা পাসপোর্ট যেকোনো একটির মাধ্যমে ভোট প্রদানের সুযোগ দেওয়া হোক; রেজিস্টার্ড প্রবাসী ভোটারদের তালিকা রাজনৈতিক দলগুলোকে যৌক্তিক সময়ে সরবরাহ করতে হবে।

১৭. নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও নিরপেক্ষতা যাচাই করতে হবে।

১৮. অতীতকালে ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করা হয়ে থাকলে অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে সেগুলো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করতে হবে।