ঢাকা , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডামি নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন দলের অনুষ্ঠানে গান গেয়েছিলেন আবুল সরকার—কটূক্তির ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৩৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ৬৩৮ বার পড়া হয়েছে

 

ইসলাম ও আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া বাউল শিল্পী আবুল সরকারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র নিন্দা ঝড়ে বহু ধর্মীয় সংগঠন তার দ্রুত বিচার দাবি করেছে। গত সপ্তাহে ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদারীপুর থেকে তাকে আটক করা হয় এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

এদিকে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা আবুল সরকারের একটি পুরোনো গান নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। ২০২৪ সালের মার্চে ‘গানের পাখি বিডি’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ওই গানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা ও নৌকা প্রতীকের প্রশংসা করেন। ভিডিওর ব্যানার বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষমতাসীন দলের ৭ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পর টাঙ্গাইলের এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গানটি পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ।
নতুন ভাইরাল হওয়া গানে আবুল সরকারের কণ্ঠে শোনা যায়—
“ইতিহাসের রাখাল রাজা বঙ্গবন্ধুর নায়,
আয় বাঙালি জলদি কইরা আয়;
তোরা আয়, আয়রে আমার শেখ হাসিনার নায়।”

৪ অক্টোবর মানিকগঞ্জের ঘিওরে এক অনুষ্ঠানে ইসলাম ও আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ ওঠার পরই দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার অতীত কর্মকাণ্ডও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এদিকে আবুল সরকারের গ্রেফতারের পর আরেক বাউল শিল্পী হাসিনা সরকার পুরুষ বাউলদের বিরুদ্ধে গুরুতর অনৈতিকতার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, নারী শিল্পীরা অনেক সময় প্রোগ্রাম পাওয়ার বিনিময়ে কুপ্রস্তাবের মুখে পড়েন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, “কাজ চাইতে গেলে কিছু পুরুষ বাউল বলেন—‘খেয়াল রাখতে হলে কথা শুনতে হবে’। সরাসরি অনৈতিক শর্তও দেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমার ইজ্জত বিক্রি করে আমি কোনো প্রোগ্রাম নেব না। বাউল জগতে এখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে অনেক নারী শিল্পীকেই কুপ্রস্তাবের শিকার হতে হয়।”

হাসিনা সরকার নাম উল্লেখ না করলেও দাবি করেছেন যে তাকে একাধিকবার বেডে নেওয়ার ইঙ্গিতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল প্রোগ্রাম দেওয়ার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে।


 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ডামি নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন দলের অনুষ্ঠানে গান গেয়েছিলেন আবুল সরকার—কটূক্তির ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ

আপডেট সময় ০৯:৩৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

 

ইসলাম ও আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া বাউল শিল্পী আবুল সরকারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র নিন্দা ঝড়ে বহু ধর্মীয় সংগঠন তার দ্রুত বিচার দাবি করেছে। গত সপ্তাহে ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদারীপুর থেকে তাকে আটক করা হয় এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

এদিকে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা আবুল সরকারের একটি পুরোনো গান নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। ২০২৪ সালের মার্চে ‘গানের পাখি বিডি’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ওই গানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা ও নৌকা প্রতীকের প্রশংসা করেন। ভিডিওর ব্যানার বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষমতাসীন দলের ৭ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পর টাঙ্গাইলের এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গানটি পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ।
নতুন ভাইরাল হওয়া গানে আবুল সরকারের কণ্ঠে শোনা যায়—
“ইতিহাসের রাখাল রাজা বঙ্গবন্ধুর নায়,
আয় বাঙালি জলদি কইরা আয়;
তোরা আয়, আয়রে আমার শেখ হাসিনার নায়।”

৪ অক্টোবর মানিকগঞ্জের ঘিওরে এক অনুষ্ঠানে ইসলাম ও আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ ওঠার পরই দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার অতীত কর্মকাণ্ডও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এদিকে আবুল সরকারের গ্রেফতারের পর আরেক বাউল শিল্পী হাসিনা সরকার পুরুষ বাউলদের বিরুদ্ধে গুরুতর অনৈতিকতার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, নারী শিল্পীরা অনেক সময় প্রোগ্রাম পাওয়ার বিনিময়ে কুপ্রস্তাবের মুখে পড়েন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, “কাজ চাইতে গেলে কিছু পুরুষ বাউল বলেন—‘খেয়াল রাখতে হলে কথা শুনতে হবে’। সরাসরি অনৈতিক শর্তও দেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমার ইজ্জত বিক্রি করে আমি কোনো প্রোগ্রাম নেব না। বাউল জগতে এখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে অনেক নারী শিল্পীকেই কুপ্রস্তাবের শিকার হতে হয়।”

হাসিনা সরকার নাম উল্লেখ না করলেও দাবি করেছেন যে তাকে একাধিকবার বেডে নেওয়ার ইঙ্গিতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল প্রোগ্রাম দেওয়ার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে।