বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে বাকি আর দুই সপ্তাহেরও কম সময়। দল ঘোষণা আর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে এখন ব্যস্ত অংশগ্রহণকারী দেশগুলো। সেই ধারাবাহিকতায় ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের মিশনে নামা আলবিসেলেস্তেদের দলে কতটা চমক রেখেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি—এটাই এখন ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
মোটা দাগে বলতে গেলে, স্কালোনির এই স্কোয়াডে বড় কোনো অঘটন নেই। কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের বেশির ভাগ পরীক্ষিত সৈনিককেই রেখেছেন তিনি। মূলত, ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের গড় বয়স তুলনামূলক কম হওয়ায় সেই স্কোয়াডকে ঘিরেই নতুন চক্র শুরু করার সুযোগ ছিল আর্জেন্টিনার সামনে। আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছেন স্কালোনি।
তবে দল ঘোষণার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে অভিজ্ঞ লেফট-ব্যাক মার্কোস আকুনার বাদ পড়া। রিভার প্লেটের হয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত খেলার সুযোগ না পাওয়ায় তার বাদ পড়া একেবারে অপ্রত্যাশিত না হলেও, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডারের অনুপস্থিতি কিছুটা বিস্ময় তৈরি করেছে।
আর্জেন্টিনার এই স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রক্ষণভাগ নিয়ে। কারণ দলে দ্বিতীয় কোনো স্বীকৃত লেফট-ব্যাক নেই। যদিও প্রয়োজনে ফাকুন্দো মেদিনা কিংবা ভ্যালেন্তিন বার্কো এই পজিশনে খেলতে পারেন। বিশেষ করে বার্কো মাঝমাঠে খেললেও লেফট-ব্যাকে খেলার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তবুও বিকল্পের ঘাটতি ডিফেন্সে কিছুটা দুর্বলতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এছাড়া মার্কোস সেনেসির বদলে ফাকুন্দো মেদিনাকে দলে নেওয়াটাও চোখে পড়ার মতো সিদ্ধান্ত। যদিও সেনেসি সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিতই জাতীয় দলে সুযোগ পাচ্ছিলেন। অন্যদিকে, বাঁ-পায়ের সেন্টারব্যাক হিসেবে দলে রাখা হয়েছে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে।
মাঝমাঠে বড় সুখবর হয়ে এসেছে জিওভানি লো সেলসোর প্রত্যাবর্তন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ঠিক আগে চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে পড়েছিলেন এই মিডফিল্ডার। এবার তিনি ফিরেছেন পূর্ণ শক্তিতে। তার অন্তর্ভুক্তির কারণে জায়গা হয়নি এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া ও ম্যাক্সিমো পেরোনের।
স্কালোনির দল নির্বাচন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মাঝমাঠের মূল দায়িত্বে তিনি ভরসা রাখছেন লিয়ান্দ্রো পারাদেস ও অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের ওপর। বল নিয়ন্ত্রণ, খেলার গতি তৈরি ও ভারসাম্য রক্ষায় এই জুটিকেই কেন্দ্রীয় ভূমিকায় দেখা যেতে পারে।
আক্রমণভাগেও কিছুটা চমক রেখেছেন স্কালোনি। সাম্প্রতিক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে দলে জায়গা পেয়েছেন হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ। ফলে অন্যান্য অনেক দলের তুলনায় এবার আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে ফরোয়ার্ডের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। লোপেজকে মূলত সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশনের তৃতীয় বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে।
তবে তরুণ প্রতিভা ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনোর বাদ পড়া কিছুটা বিস্ময় তৈরি করেছে। যদিও গত ডিসেম্বর থেকেই এর ইঙ্গিত মিলছিল। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ না পাওয়াই তার বাদ পড়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, আকুনা ও মাস্তানতুয়োনোর মতো দু-একজনের বাদ পড়া ছাড়া স্কালোনির স্কোয়াডে বড় কোনো চমক নেই। তবে আর্জেন্টিনা এবার সবচেয়ে বেশি মিস করবে একজনকেই—আনহেল দি মারিয়াকে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোয় এবারের বিশ্বকাপ দলে নেই এই কিংবদন্তি উইঙ্গার। অথচ কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপের মতো বড় ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করে বহুবার দলকে রক্ষা করেছেন তিনি। তাই এবার মাঠের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার নতুন ‘ক্রাইসিস ম্যান’ কে হয়ে উঠবেন, সেটাই এখন কোটি কোটি সমর্থকের সবচেয়ে বড় কৌতূহল।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























