সরকার জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে দলীয় কর্মী পালনের বাজেট উপস্থাপন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে ‘জনবিরোধী ও লুটপাটের’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ড. আযাদ বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের এই বাজেটে ‘জুলাই আকাঙ্ক্ষার’ কোনো প্রতিফলন ঘটেনি; বরং পুরোনো ধনীবান্ধব ব্যবস্থার গতানুগতিক চিত্রই ফুটে উঠেছে। বাজেটের ৭০ শতাংশই পরিচালন ব্যয়।
তিনি এই বাজেট সংশোধন করে জামায়াতের দেওয়া প্রস্তাবিত বাজেট অনুসরণের আহ্বান জানান, যা বর্তমান বাজেট থেকে এক লাখ কোটি টাকা কম এবং সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত বলে দাবি করেন।
বাজেটের নেতিবাচক দিক তুলে ধরে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে খুচরা বিক্রেতাদের ওপর আগাম কর, কাস্টমস ডিউটি ও পরোক্ষ কর বৃদ্ধির পরিকল্পনা সাধারণ ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার খরচ বাড়িয়ে দেবে।
তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার যে লক্ষ্য ধরা হয়েছে, তার ফলে ‘ক্রাউডিং-আউট ইফেক্ট’ তৈরি হবে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে গিয়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে স্থবিরতা আসবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বলেন, এই বিশাল বাজেট জনবান্ধব নয়, বরং দলীয় বান্ধব। এর মাধ্যমে সরকার দলীয় ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা উপকৃত হবে।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান ও মুহাম্মদ শামছুর রহমান।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, সাধারণ নাগরিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতেও টিন সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করার বিধান যুক্ত করে জনগণের পকেট কাটার বাজেট দেওয়া হয়েছে।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগরী সভাপতি আবদুস সালাম, জামায়াত নেতা ড. মোবারক হোসেন, শাহীন আহমেদ খান প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি পল্টন মোড় হয়ে বিজয়নগর প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা অবিলম্বে বাজেট সংশোধনের দাবি জানান।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















