বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে কি নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে? বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমছে, আর বাড়ছে চীনের গ্রহণযোগ্যতা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের সর্বশেষ বৈশ্বিক জরিপে উঠে এসেছে এমনই চিত্র।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে বিশ্বের ৩৬টি দেশের ৪২ হাজারের বেশি মানুষের মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত এ জরিপে দেখা গেছে, ২৫টি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বেশি। ২০০২ সালে জরিপ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম এত বেশি দেশে চীন জনমতের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে।
স্পেন, ইতালি, গ্রিস, কানাডা ও ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে চীনের প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন, পোল্যান্ড ও ইসরায়েলে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জনসমর্থন তুলনামূলক বেশি।
পিউ রিসার্চের গবেষক জোনাথন শুলম্যান বলছেন, আগে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তা কমলেও চীন সাধারণত সমপর্যায়ে বা তার নিচে থাকত। এবার প্রথমবারের মতো বড় ব্যবধানে চীনের পক্ষে জনমত তৈরি হয়েছে।
জরিপে আরও দেখা গেছে, পাকিস্তানে ৯০ শতাংশ উত্তরদাতা চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন, যেখানে জাপানে এ হার মাত্র ১১ শতাংশ।
বিশ্বনেতাদের প্রতি আস্থার ক্ষেত্রেও বেশিরভাগ দেশে শি জিনপিং, ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুলনায় বেশি সমর্থন পেয়েছেন। একই সঙ্গে অনেকের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতি বেশি শ্রদ্ধাশীল হলেও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ৭৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ওয়াশিংটন অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির অনিশ্চয়তা এবং চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক উপস্থিতি বৈশ্বিক জনমতে এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। তবে মানবাধিকার ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বাড়লেও দেশটির নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























