ঢাকা , শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ভিআইপি গ্যালারিতে থাকছেন ট্রাম্প, আর্জেন্টিনা-স্পেনের প্রধানরা থাকছেন কি? ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বললেন যুক্তরাজ্যের হবু প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পেয়ে নাহিদ এক দফার ঘোষণা করেছিল: রাশেদ খান আইনমন্ত্রীর পরিচয়ে প্রতারণা করতেন আতিয়ার দাবানলের ধোঁয়ায় ফাইনালের আগে নিউইয়র্কে বায়ুদূষণ সতর্কতা ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পর্শকাতর তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাস চুয়াডাঙ্গায় বাল্যবিয়ের আয়োজনে প্রশাসনের হানা, কনের মাকে জরিমানা লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হলেন যুক্তরাজ্যের হবু প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফরের বিচার অন্য আসামিদের মতোই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেক্সিকোতে ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা

ইসরায়েলি হেফাজতে ধর্ষণের অভিযোগ, ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন অধিকারকর্মী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৪৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫৭ বার পড়া হয়েছে

গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়া একটি ফ্লোটিলার সদস্য, জার্মান মানবাধিকারকর্মী অ্যানা লিডকে ইসরায়েলি হেফাজতে ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন। তার সাক্ষাৎকার ও ইসরায়েলে দায়ের করা ফৌজদারি অভিযোগে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে গাজাগামী মানবিক সহায়তাবাহী নৌযান আটকের পর অ্যানা লিডকেকে ইসরায়েলে নিয়ে পাঁচ দিন আটক রাখা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, বন্দিশালায় তৃতীয়বারের মতো শরীর তল্লাশির সময় কারারক্ষীরা তাকে জোর করে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করেন, মুখ চেপে ধরেন এবং তার ওপর যৌন নির্যাতন চালান।

২৫ বছর বয়সী এই অধিকারকর্মীর দাবি, নির্যাতনের সময় তিনি পুরুষ কারারক্ষীদের হাসির শব্দ শুনেছিলেন। তার ধারণা, ঘটনাটি অন্য রক্ষীরা দেখছিলেন, এমনকি ভিডিও ধারণও করা হয়ে থাকতে পারে।

লিডকে বলেন, এসব নির্যাতনের উদ্দেশ্য ছিল ফ্লোটিলা কর্মীদের ভয় দেখানো এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলা থেকে বিরত রাখা। তবে তিনি চুপ না থেকে বিষয়টি চিকিৎসক, বন্ধু এবং আইনজীবীদের জানান। গত ডিসেম্বরে তিনিই প্রথম প্রকাশ্যে ইসরায়েলি হেফাজতে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনেন। এরপর আরও এক ডজনের বেশি ফ্লোটিলা কর্মী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন, যদিও তাদের বেশিরভাগই পরিচয় প্রকাশ করেননি।

এ ঘটনায় অ্যানা লিডকের আইনজীবীরা ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেল, কারা কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার ভাষায়, “আমি লজ্জিত নই। আমরা চুপ থাকলে, তারা অন্যদের সঙ্গেও একই কাজ করবে।”


আইনজীবীদের দাবি, এই মামলার লক্ষ্য শুধু অ্যানা লিডকের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা নয়, বরং বন্দিদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে জবাবদিহি নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, মানবাধিকারকর্মীদের মতে, ফিলিস্তিনি বন্দিদের পাশাপাশি সংহতি জানাতে যাওয়া বিদেশি কর্মীরাও একই ধরনের নির্যাতনের ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভিআইপি গ্যালারিতে থাকছেন ট্রাম্প, আর্জেন্টিনা-স্পেনের প্রধানরা থাকছেন কি?

ইসরায়েলি হেফাজতে ধর্ষণের অভিযোগ, ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন অধিকারকর্মী

আপডেট সময় ০৩:৪৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়া একটি ফ্লোটিলার সদস্য, জার্মান মানবাধিকারকর্মী অ্যানা লিডকে ইসরায়েলি হেফাজতে ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন। তার সাক্ষাৎকার ও ইসরায়েলে দায়ের করা ফৌজদারি অভিযোগে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে গাজাগামী মানবিক সহায়তাবাহী নৌযান আটকের পর অ্যানা লিডকেকে ইসরায়েলে নিয়ে পাঁচ দিন আটক রাখা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, বন্দিশালায় তৃতীয়বারের মতো শরীর তল্লাশির সময় কারারক্ষীরা তাকে জোর করে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করেন, মুখ চেপে ধরেন এবং তার ওপর যৌন নির্যাতন চালান।

২৫ বছর বয়সী এই অধিকারকর্মীর দাবি, নির্যাতনের সময় তিনি পুরুষ কারারক্ষীদের হাসির শব্দ শুনেছিলেন। তার ধারণা, ঘটনাটি অন্য রক্ষীরা দেখছিলেন, এমনকি ভিডিও ধারণও করা হয়ে থাকতে পারে।

লিডকে বলেন, এসব নির্যাতনের উদ্দেশ্য ছিল ফ্লোটিলা কর্মীদের ভয় দেখানো এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলা থেকে বিরত রাখা। তবে তিনি চুপ না থেকে বিষয়টি চিকিৎসক, বন্ধু এবং আইনজীবীদের জানান। গত ডিসেম্বরে তিনিই প্রথম প্রকাশ্যে ইসরায়েলি হেফাজতে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনেন। এরপর আরও এক ডজনের বেশি ফ্লোটিলা কর্মী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন, যদিও তাদের বেশিরভাগই পরিচয় প্রকাশ করেননি।

এ ঘটনায় অ্যানা লিডকের আইনজীবীরা ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেল, কারা কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার ভাষায়, “আমি লজ্জিত নই। আমরা চুপ থাকলে, তারা অন্যদের সঙ্গেও একই কাজ করবে।”


আইনজীবীদের দাবি, এই মামলার লক্ষ্য শুধু অ্যানা লিডকের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা নয়, বরং বন্দিদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে জবাবদিহি নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, মানবাধিকারকর্মীদের মতে, ফিলিস্তিনি বন্দিদের পাশাপাশি সংহতি জানাতে যাওয়া বিদেশি কর্মীরাও একই ধরনের নির্যাতনের ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।