ঢাকা , রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা, সারা দেশে সতর্কতা জোরদার নতুন করে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-যুক্তরাজ্য, কলকাঠি নাড়ছে ওয়াশিংটন বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১ নোয়াখালীতে ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ, প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার ১৩ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ, পূজা চেরির বাবা গ্রেপ্তার উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর স্মার্টফোনের ন্যূনতম দাম ২৫০০ টাকার মধ্যে আনতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ‘স্থায়ী শান্তি’ আসবে না: রাশিয়া হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির আজহারী ও জারার ছবি ব্যবহার করে যৌন উত্তেজক ওষুধের বিজ্ঞাপন, গ্রেপ্তার ১০

২২ বছরের অপেক্ষার অবসান: ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ২১৪ বার পড়া হয়েছে

জার্সিতে হামজা চৌধুরী আর শমিত সোমদের আগমন বদলে দিয়েছে লাল-সবুজের চেহারা। একসময় যেখানে হংকংয়ের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই অসম মনে হতো, সেখানে এখন সমান তালে খেলছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোর হতাশা—হংকংয়ের বিপক্ষে নিশ্চিত জয় হাতছাড়া হওয়া কিংবা নেপালের সঙ্গে অপ্রত্যাশিত ড্র—সব ভুলে বাংলাদেশ মঙ্গলবার ভারতের বিরুদ্ধে তুলে নিলো দারুণ একটি জয়। ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস রচনা করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের নিয়মরক্ষার ম্যাচটি পরিণত হয়েছিল মর্যাদার লড়াইয়ে। মূল পর্বে ওঠার আশা দুই দলেরই শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ভরা গ্যালারি, তুমুল উচ্ছ্বাস আর প্রতিবেশী দেশের বিপক্ষে জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষায় ম্যাচটি হয়ে ওঠে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।

শুরু থেকেই ঘরের মাঠের আবেগকে শক্তিতে রূপান্তর করে আক্রমণাত্মক খেলায় নামে বাংলাদেশ। এরই পুরস্কার মেলে ১৩ মিনিটে। রাকিবের দারুণ গতিময় দৌড় ও নিখুঁত বাঁ পায়ের পাস থেকে আলতো স্পর্শে বল জালে পাঠান শেখ মোরসালিন। গোলের পর উচ্ছ্বাসে ভাসে স্টেডিয়াম।

তারপরই পাল্টা আক্রমণে আসে ভারত। এর মধ্যেই ইনজুরিতে মাঠ ছাড়েন তারিক কাজী, কিছুটা চাপ বাড়ে বাংলাদেশ রক্ষণে। প্রথমার্ধে ভারতের হয়ে একটি গোল হওয়ার মতো সুযোগও তৈরি হয়, তবে হামজা চৌধুরীর অবিশ্বাস্য দৌড় ও লাফিয়ে হেডে ক্লিয়ার—ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত—বাংলাদেশকে বিপদ থেকে বাঁচায়।

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ কিছুটা বল দখলে রেখে আক্রমণের চেষ্টা করে, আর ভারত শোধ করতে না পেরে ছুটতে থাকে সময়ের পেছনে। ম্যাচের শেষদিকে রক্ষণাত্মক সেটআপে গতি কিছুটা কমালেও হামজা, শমিত, জায়ান এবং তপুর সমন্বিত রক্ষণ ভারতের সব আক্রমণ ভেস্তে দেয়। গোলরক্ষক মিতুল মারমারও দারুণ স্থিরতা দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত জাল অক্ষত রাখেন।

শেষ বাঁশি বাজতেই বাংলাদেশের স্টেডিয়াম ভেসে যায় উল্লাসে। দুই দশকেরও বেশি সময় পর ভারতের বিরুদ্ধে এমন একটি শ্বাসরুদ্ধকর ও মর্যাদাপূর্ণ জয় উপহার দিলো লাল-সবুজ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা, সারা দেশে সতর্কতা জোরদার

২২ বছরের অপেক্ষার অবসান: ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের

আপডেট সময় ১০:২৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

জার্সিতে হামজা চৌধুরী আর শমিত সোমদের আগমন বদলে দিয়েছে লাল-সবুজের চেহারা। একসময় যেখানে হংকংয়ের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই অসম মনে হতো, সেখানে এখন সমান তালে খেলছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোর হতাশা—হংকংয়ের বিপক্ষে নিশ্চিত জয় হাতছাড়া হওয়া কিংবা নেপালের সঙ্গে অপ্রত্যাশিত ড্র—সব ভুলে বাংলাদেশ মঙ্গলবার ভারতের বিরুদ্ধে তুলে নিলো দারুণ একটি জয়। ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস রচনা করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের নিয়মরক্ষার ম্যাচটি পরিণত হয়েছিল মর্যাদার লড়াইয়ে। মূল পর্বে ওঠার আশা দুই দলেরই শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ভরা গ্যালারি, তুমুল উচ্ছ্বাস আর প্রতিবেশী দেশের বিপক্ষে জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষায় ম্যাচটি হয়ে ওঠে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।

শুরু থেকেই ঘরের মাঠের আবেগকে শক্তিতে রূপান্তর করে আক্রমণাত্মক খেলায় নামে বাংলাদেশ। এরই পুরস্কার মেলে ১৩ মিনিটে। রাকিবের দারুণ গতিময় দৌড় ও নিখুঁত বাঁ পায়ের পাস থেকে আলতো স্পর্শে বল জালে পাঠান শেখ মোরসালিন। গোলের পর উচ্ছ্বাসে ভাসে স্টেডিয়াম।

তারপরই পাল্টা আক্রমণে আসে ভারত। এর মধ্যেই ইনজুরিতে মাঠ ছাড়েন তারিক কাজী, কিছুটা চাপ বাড়ে বাংলাদেশ রক্ষণে। প্রথমার্ধে ভারতের হয়ে একটি গোল হওয়ার মতো সুযোগও তৈরি হয়, তবে হামজা চৌধুরীর অবিশ্বাস্য দৌড় ও লাফিয়ে হেডে ক্লিয়ার—ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত—বাংলাদেশকে বিপদ থেকে বাঁচায়।

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ কিছুটা বল দখলে রেখে আক্রমণের চেষ্টা করে, আর ভারত শোধ করতে না পেরে ছুটতে থাকে সময়ের পেছনে। ম্যাচের শেষদিকে রক্ষণাত্মক সেটআপে গতি কিছুটা কমালেও হামজা, শমিত, জায়ান এবং তপুর সমন্বিত রক্ষণ ভারতের সব আক্রমণ ভেস্তে দেয়। গোলরক্ষক মিতুল মারমারও দারুণ স্থিরতা দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত জাল অক্ষত রাখেন।

শেষ বাঁশি বাজতেই বাংলাদেশের স্টেডিয়াম ভেসে যায় উল্লাসে। দুই দশকেরও বেশি সময় পর ভারতের বিরুদ্ধে এমন একটি শ্বাসরুদ্ধকর ও মর্যাদাপূর্ণ জয় উপহার দিলো লাল-সবুজ।