ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাতক্ষীরায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে চাকরি পেলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শারমিন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘জনপ্রিয়তার শীর্ষে’ থাকা কে এই খাইরুল দেওয়ান বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন দেশের বাজারে পাওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের ২৬টিতেই মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক শিশুর অনুরোধে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ‘চুক্তিতে’ স্বাক্ষর করলেন স্কালোনি সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের এবার ইরানে স্থলসেনা নামানোর ছক যুক্তরাষ্ট্রের, ভয়ংকর পরিকল্পনা ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ পরীক্ষায় ছাত্রদলের দুই নেতার হাতাহাতি ইরানে হামলায় যুক্তরাজ্যের কোনো ঘাঁটি ব্যবহৃত হলে তা হবে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’: আইআরজিসি কৃষক সেজে ফসলি মাঠ থেকে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে ধরল পুলিশ

২২ বছরের অপেক্ষার অবসান: ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৫৭ বার পড়া হয়েছে

জার্সিতে হামজা চৌধুরী আর শমিত সোমদের আগমন বদলে দিয়েছে লাল-সবুজের চেহারা। একসময় যেখানে হংকংয়ের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই অসম মনে হতো, সেখানে এখন সমান তালে খেলছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোর হতাশা—হংকংয়ের বিপক্ষে নিশ্চিত জয় হাতছাড়া হওয়া কিংবা নেপালের সঙ্গে অপ্রত্যাশিত ড্র—সব ভুলে বাংলাদেশ মঙ্গলবার ভারতের বিরুদ্ধে তুলে নিলো দারুণ একটি জয়। ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস রচনা করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের নিয়মরক্ষার ম্যাচটি পরিণত হয়েছিল মর্যাদার লড়াইয়ে। মূল পর্বে ওঠার আশা দুই দলেরই শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ভরা গ্যালারি, তুমুল উচ্ছ্বাস আর প্রতিবেশী দেশের বিপক্ষে জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষায় ম্যাচটি হয়ে ওঠে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।

শুরু থেকেই ঘরের মাঠের আবেগকে শক্তিতে রূপান্তর করে আক্রমণাত্মক খেলায় নামে বাংলাদেশ। এরই পুরস্কার মেলে ১৩ মিনিটে। রাকিবের দারুণ গতিময় দৌড় ও নিখুঁত বাঁ পায়ের পাস থেকে আলতো স্পর্শে বল জালে পাঠান শেখ মোরসালিন। গোলের পর উচ্ছ্বাসে ভাসে স্টেডিয়াম।

তারপরই পাল্টা আক্রমণে আসে ভারত। এর মধ্যেই ইনজুরিতে মাঠ ছাড়েন তারিক কাজী, কিছুটা চাপ বাড়ে বাংলাদেশ রক্ষণে। প্রথমার্ধে ভারতের হয়ে একটি গোল হওয়ার মতো সুযোগও তৈরি হয়, তবে হামজা চৌধুরীর অবিশ্বাস্য দৌড় ও লাফিয়ে হেডে ক্লিয়ার—ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত—বাংলাদেশকে বিপদ থেকে বাঁচায়।

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ কিছুটা বল দখলে রেখে আক্রমণের চেষ্টা করে, আর ভারত শোধ করতে না পেরে ছুটতে থাকে সময়ের পেছনে। ম্যাচের শেষদিকে রক্ষণাত্মক সেটআপে গতি কিছুটা কমালেও হামজা, শমিত, জায়ান এবং তপুর সমন্বিত রক্ষণ ভারতের সব আক্রমণ ভেস্তে দেয়। গোলরক্ষক মিতুল মারমারও দারুণ স্থিরতা দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত জাল অক্ষত রাখেন।

শেষ বাঁশি বাজতেই বাংলাদেশের স্টেডিয়াম ভেসে যায় উল্লাসে। দুই দশকেরও বেশি সময় পর ভারতের বিরুদ্ধে এমন একটি শ্বাসরুদ্ধকর ও মর্যাদাপূর্ণ জয় উপহার দিলো লাল-সবুজ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে চাকরি পেলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শারমিন

২২ বছরের অপেক্ষার অবসান: ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের

আপডেট সময় ১০:২৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

জার্সিতে হামজা চৌধুরী আর শমিত সোমদের আগমন বদলে দিয়েছে লাল-সবুজের চেহারা। একসময় যেখানে হংকংয়ের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই অসম মনে হতো, সেখানে এখন সমান তালে খেলছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোর হতাশা—হংকংয়ের বিপক্ষে নিশ্চিত জয় হাতছাড়া হওয়া কিংবা নেপালের সঙ্গে অপ্রত্যাশিত ড্র—সব ভুলে বাংলাদেশ মঙ্গলবার ভারতের বিরুদ্ধে তুলে নিলো দারুণ একটি জয়। ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস রচনা করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের নিয়মরক্ষার ম্যাচটি পরিণত হয়েছিল মর্যাদার লড়াইয়ে। মূল পর্বে ওঠার আশা দুই দলেরই শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ভরা গ্যালারি, তুমুল উচ্ছ্বাস আর প্রতিবেশী দেশের বিপক্ষে জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষায় ম্যাচটি হয়ে ওঠে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।

শুরু থেকেই ঘরের মাঠের আবেগকে শক্তিতে রূপান্তর করে আক্রমণাত্মক খেলায় নামে বাংলাদেশ। এরই পুরস্কার মেলে ১৩ মিনিটে। রাকিবের দারুণ গতিময় দৌড় ও নিখুঁত বাঁ পায়ের পাস থেকে আলতো স্পর্শে বল জালে পাঠান শেখ মোরসালিন। গোলের পর উচ্ছ্বাসে ভাসে স্টেডিয়াম।

তারপরই পাল্টা আক্রমণে আসে ভারত। এর মধ্যেই ইনজুরিতে মাঠ ছাড়েন তারিক কাজী, কিছুটা চাপ বাড়ে বাংলাদেশ রক্ষণে। প্রথমার্ধে ভারতের হয়ে একটি গোল হওয়ার মতো সুযোগও তৈরি হয়, তবে হামজা চৌধুরীর অবিশ্বাস্য দৌড় ও লাফিয়ে হেডে ক্লিয়ার—ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত—বাংলাদেশকে বিপদ থেকে বাঁচায়।

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ কিছুটা বল দখলে রেখে আক্রমণের চেষ্টা করে, আর ভারত শোধ করতে না পেরে ছুটতে থাকে সময়ের পেছনে। ম্যাচের শেষদিকে রক্ষণাত্মক সেটআপে গতি কিছুটা কমালেও হামজা, শমিত, জায়ান এবং তপুর সমন্বিত রক্ষণ ভারতের সব আক্রমণ ভেস্তে দেয়। গোলরক্ষক মিতুল মারমারও দারুণ স্থিরতা দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত জাল অক্ষত রাখেন।

শেষ বাঁশি বাজতেই বাংলাদেশের স্টেডিয়াম ভেসে যায় উল্লাসে। দুই দশকেরও বেশি সময় পর ভারতের বিরুদ্ধে এমন একটি শ্বাসরুদ্ধকর ও মর্যাদাপূর্ণ জয় উপহার দিলো লাল-সবুজ।