ঢাকা , শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য ‘কুমিরবেষ্টিত কারাগার’ পরিকল্পনা, আইনি প্রক্রিয়া শুরু ইসরায়েলে শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যার পর আড্ডা বন্ধের নির্দেশ হরমুজে ইরানের মাইন পাতা এলাকায় দুই তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ নিয়ে যা বললেন জয়সওয়াল মেসির সাফল্যের পেছনে রোকুজ্জো,বললেন শাকিরা স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনালে হাফটাইম ১৭ মিনিট, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ফিফার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি ফ্রান্স-ইংল্যান্ড, এমবাপ্পের চোখ গোল্ডেন বুটে আমরা কী অর্জন করেছি তা ভাবলে চোখে পানি চলে আসে: এমি মার্তিনেজ শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা সভ্য রাষ্ট্রে মানায় না: নাসীরুদ্দীন এবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি ইরানের

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা: ঘোষণা কম, ইঙ্গিতই বেশি?

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:২২:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

প্রায় দুই বছর ধরে ভারতে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বরে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান। এই বক্তব্য প্রকাশের পর বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতেও শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

তবে দিল্লির নীতিনির্ধারক ও বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, এটি দেশে ফেরার চূড়ান্ত ঘোষণা নয়; বরং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া যাচাইয়ের একটি কৌশলগত বার্তা।

ভারতের শীর্ষ সরকারি সূত্রগুলো বলছে, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান নিয়ে দিল্লির নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ভারত তাকে আশ্রয়ের জন্য আমন্ত্রণও জানায়নি, আবার তাকে দেশ ছাড়তেও বলছে না। পরিস্থিতি অনুকূল হলে তিনি ফিরতে পারেন, আর অনুকূল না হলে ভারতে থাকতেও পারেন—এমন অবস্থানই বজায় রেখেছে দিল্লি।

পর্যবেক্ষকদের মতে, শেখ হাসিনা আদৌ ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন কি না, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক মাসের রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতি, বাংলাদেশের সরকারের পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থানের ওপর।

আরও একটি বিষয় নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক ঐকমত্য। তাদের ধারণা, ভারতের সম্মতি ছাড়া শেখ হাসিনার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই ঘোষণায় ভারত ও শেখ হাসিনা—উভয়েরই কূটনৈতিক সুবিধা রয়েছে। তিনি দেশে ফিরলে ভারতের দীর্ঘদিনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির অবসান ঘটতে পারে। আর যদি না ফেরেন, তাহলে বলা যাবে—ফেরার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূল হয়নি।

সব মিলিয়ে, দিল্লির পর্যবেক্ষকদের চোখে এটি দেশে ফেরার নিশ্চিত ঘোষণা নয়; বরং রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাচাই এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য একটি হিসাবি কৌশল।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য ‘কুমিরবেষ্টিত কারাগার’ পরিকল্পনা, আইনি প্রক্রিয়া শুরু ইসরায়েলে

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা: ঘোষণা কম, ইঙ্গিতই বেশি?

আপডেট সময় ০১:২২:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

প্রায় দুই বছর ধরে ভারতে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বরে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান। এই বক্তব্য প্রকাশের পর বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতেও শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

তবে দিল্লির নীতিনির্ধারক ও বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, এটি দেশে ফেরার চূড়ান্ত ঘোষণা নয়; বরং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া যাচাইয়ের একটি কৌশলগত বার্তা।

ভারতের শীর্ষ সরকারি সূত্রগুলো বলছে, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান নিয়ে দিল্লির নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ভারত তাকে আশ্রয়ের জন্য আমন্ত্রণও জানায়নি, আবার তাকে দেশ ছাড়তেও বলছে না। পরিস্থিতি অনুকূল হলে তিনি ফিরতে পারেন, আর অনুকূল না হলে ভারতে থাকতেও পারেন—এমন অবস্থানই বজায় রেখেছে দিল্লি।

পর্যবেক্ষকদের মতে, শেখ হাসিনা আদৌ ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন কি না, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক মাসের রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতি, বাংলাদেশের সরকারের পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থানের ওপর।

আরও একটি বিষয় নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক ঐকমত্য। তাদের ধারণা, ভারতের সম্মতি ছাড়া শেখ হাসিনার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই ঘোষণায় ভারত ও শেখ হাসিনা—উভয়েরই কূটনৈতিক সুবিধা রয়েছে। তিনি দেশে ফিরলে ভারতের দীর্ঘদিনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির অবসান ঘটতে পারে। আর যদি না ফেরেন, তাহলে বলা যাবে—ফেরার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূল হয়নি।

সব মিলিয়ে, দিল্লির পর্যবেক্ষকদের চোখে এটি দেশে ফেরার নিশ্চিত ঘোষণা নয়; বরং রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাচাই এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য একটি হিসাবি কৌশল।